ক্রিয়া বিশেষণ কাকে বলে | ক্রিয়া বিশেষণ চেনার উপায়

বিশেষণ কি?

যে পদ দ্বারা কোন বিশেষ্য (নাম), সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, বৈশিষ্ট্য, সংখ্যা, পরিমান ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ (adjective) বলে।

ক্রিয়াবিশেষণ কাকে বলে?

যে পদ ক্রিয়া পদকে বিশেষায়িত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যদি ক্রিয়াপদ দ্বারা দোষ, গুণ, অবস্থা, বৈশিষ্ট্য, সংখ্যা, পরিমান ইত্যাদি বোঝায় তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমনঃ মেয়েটি থেকে থেকে কাঁদছে। এই বাক্যে “থেকে থেকে” পদটি ক্রিয়াবিশেষণ।

আমরা জানি একটি ব্যাক্যে সাধারণত ৫ ধরনের পদ থাকতে পারে:
১। বিশেষ্য
২। সর্বনাম
৩। বিশেষণ
৪। অব্যয়
৫। ক্রিয়া

এদের মধ্যে বিশেষণ পদের কাজ হল অন্য পদের সম্পর্কে কিছু জানান দেওয়া, বা অন্য পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, মাত্রা ইত্যাদি প্রকাশ করা। বিশেষণ পদগুলি ক্রিয়া পদ সম্পর্কেও কিছু কথা জানান দিতে পারে। যেমন: ক্রিয়াটি কী ভাবে হচ্ছে, কতটা হচ্ছে ইত্যাদি। নিচে আমরা কতকগুলি উদাহরণ নিয়ে ক্রিয়াবিশেষণ সম্পর্কে ধারণাটি আরও স্পষ্ট করে নেবো।

ক্রিয়া বিশেষণ চেনার উপায়

সহজ করে বললে, বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কখন, কোথায়, কীভাবে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই ক্রিয়া বিশেষণ। যেমনঃ মেয়েটিটি জিরিয়ে জিরিয়ে কাঁদছে।যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে কাঁদছে? উত্তর আসবে ” জিরিয়ে জিরিয়ে” । এই বাক্যে “জিরিয়ে জিরিয়ে” পদটি ক্রিয়াবিশেষণ। যদি প্রশ্ন করা হয় “কেমনে কাঁদছে?” উত্তর হবে ‘জিরিয়ে জিরিয়ে‘। সুতরাং আমরা বলতে পারি ‘জিরিয়ে জিরিয়ে‘ পদটি ‘কাঁদছে‘ ক্রিয়ার ধরন প্রকাশ করছে। তাই,” জিরিয়ে জিরিয়ে” একটি ক্রিয়াবিশেষণ।

ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ

আংশিক ভাবে শেষ করেছি= আংশিক ভাবে
লোকটা এতটা পথ হেঁটে আসছে‌= হেঁটে
সে হনহনিয়ে হেটে আসছে= হনহনিয়ে
খেলায় জিতে সবাই আনন্দে নাচতে নাচতে আসলো= নাচতে নাচতে
ফোনটি হঠাৎ বেজে উঠলো= হঠাৎ
সে মেয়েটির দিকে বিচ্ছিরি ভাবে তাকালো= বিচ্ছিরি ভাবে
কাজটা এত সহজে করা যাবে না= এত সহজে
বাড়িটা দাউ দাউ করে জ্বলছে= দাউ দাউ করে
কাজটা পুরোপুরি শেষ করো= পুরোপুরি
ঘুড়িটা দূর আকাশে উড়ছে= দূর আকাশ
আচমকা কেঁদে উঠলো= আচমকা
বাঘটি সন্তর্পণে হাঁটছে‌= সন্তর্পণে

Leave a Comment